ফোনে সময় কাটানোর পরিবর্তে যে কাজগুলো করতে পারেন

সোশ্যাল মিডিয়া এবং প্রচুর ওটিটি প্ল্যাটফর্মের লোভনীয় হাতছানি তো রয়েছেই, সেইসঙ্গে আরও অনেককিছু আপনাকে সারাক্ষণ ফোনে ব্যস্ত করে তুলতে পারে। আপনি তখন কোনো লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনের স্ক্রিন স্ক্রল করে যেতে থাকবেন। এই অভ্যাস মানুষকে আরও একা করে দেয়। কারণ সামাজিকতা রক্ষা না করার কারণে তার চারপাশের মানুষেরা সরে যেতে থাকে। এমনকী দুই বন্ধু পাশাপাশি বসে একে অন্যের সঙ্গে গল্প না করে ফোনের দিকে তাকিয়ে সময় পার করছেন, এমন দৃশ্য অহরহই চোখে পড়ে। এটি মোটেও ভালো অভ্যাস নয়। দিনশেষে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ফোনে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করার অভ্যাস বন্ধ করতে হবে। বিকল্প হিসেবে করা যেতে পারে কিছু কাজ। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

১. আপনার উৎপাদনশীলতা বাড়ান

আপনার মনকে উদ্দীপিত করতে এবং ডিজিটাল দুনিয়া থেকে বাঁচতে বই পড়ুন। আপনার চারপাশের জগতকে জানতে এবং কৌতূহল পূরণ করতে যাদুঘর বা গ্রন্থাগারে যান। আপনার লক্ষ্যগুলো নির্ধারণ করার জন্য সময় নিন, ব্যক্তিগত এবং পেশাদার সমৃদ্ধির জন্য নতুন লক্ষ্য নির্ধারণ করুন। আপনার জ্ঞান প্রসারিত করতে পডকাস্ট শুনুন এবং আগ্রহের বিষয়গুলো জেনে নিন। আপনার কাজে মনোযোগ দিন। একটু পরপর ফোন হাতে নেবেন না। দিনের মধ্যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে কিছুক্ষণ ফোনে স্ক্রল করতে পারেন। অনলাইন শেখার জন্য এবং নতুন অন্তর্দৃষ্টি অর্জন করতে ওয়েবিনারে যোগ দিন। আপনার যোগাযোগ প্রক্রিয়া সহজতর করতে এবং সময় বাঁচাতে ইমেল টেমপ্লেট তৈরি করুন।

২. নতুন কিছু শিখুন

গ্রাফিক ডিজাইনিং, অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট এবং ওয়েব ডেভেলপমেন্ট শেখার মাধ্যমে প্রযুক্তি এবং ডিজাইনের জগতে প্রবেশ করতে পারেন। SEO এবং Google বিজ্ঞাপন এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে আপনার ডিজিটাল মার্কেটিং দক্ষতা উন্নত করুন। আপনার ডিজিটাল উপস্থিতি উন্নত করতে এবং দক্ষতা প্রসারিত করতে পডকাস্টিং, কোডিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের মতো সৃজনশীল উপায় বেছে নিন।

৩. গুছিয়ে নিন

আগে থেকে খাবারের পরিকল্পনা এবং তৈরি করে সঠিক ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়া নিশ্চিত করুন। বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ করুন। বাড়িতে আরামদায়ক পরিবেশ বজায় রাখুন। ছোট ছোট গৃহস্থালির কাজগুলো‌‌‌ সামলান। প্রকৃতির সঙ্গে সময় কাটান। ফুল, ফল ও সবজি বাগান করতে পারেন। রান্নাঘরে মসলাপাতি ও অন্যান্য জিনিস সুন্দরভাবে সাজিয়ে রাখুন। রান্নায় দক্ষতা বৃদ্ধি করুন। নতুন রেসিপি তৈরি করতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় জিনিস বাদ দিন এবং প্যান্ট্রি পরিষ্কার করে আরও সুন্দর করে গুছিয়ে নিন। পুরো বাড়িই এভাবে গুছিয়ে রাখলে মনও ভালো থাকবে। এদিকে আপনার সময়ও কাটবে ভালো।

৪. আর্থিক দিকগুলো দেখুন

আপনার আর্থিক দিকগুলোর দেখাশোনা করুন। ফিন্যান্স বই পড়ার মাধ্যমে কার্যকর অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং বিনিয়োগ কৌশল সম্পর্কে জানুন। কুপনিং শুরু করে দৈনন্দিন খরচে অর্থ সাশ্রয় করুন এবং খরচের ক্ষেত্রে বুদ্ধিমান হোন। কীভাবে বিনিয়োগ করতে হয় তা শিখে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আপনার সম্পদ বৃদ্ধির সুযোগ খুঁজতে থাকুন। আপনার বাজেট এবং আর্থিক সামর্থ্য পর্যালোচনা করে নিয়মিতভাবে আপনার আর্থিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করুন। সব ধরনের খরচের হিসাব রাখুন। এতে অপচয় এবং অপব্যয় অনেক কম হবে।