ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হাসির পাত্র করা হয়েছে!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্রাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ট্রান্সজেন্ডার কোটা দেওয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় ‘এলজিবিটিকিউ’ আন্দোলনকে সমর্থনের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলেও মনে করছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২১ ডিসেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন করা হয়।

মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা ট্রান্সজেন্ডার বিরোধী লেখা সম্বলিত বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিলের জন্য বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকেন। পরে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।

১. দ্রুত সময়ের মধ্যে এই কলুষিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তি বাতিল করে সংশোধিত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হবে।

২. ট্রান্সজেন্ডার পরিচয়ধারীদেরকে কোটা ব্যবস্থার আওতায় আনার মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার মতবাদকে প্রমোট করে সংবিধান ও দেশের আইন পরিপন্থী কাজ করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবিলম্বে ক্ষমা চাইতে হবে।

৩. হিজড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষার্থীরা যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা করার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য পর্যাপ্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী শাখাওয়াত জাকারিয়া বলেন, হিজরা সম্প্রদায় এবং ট্রান্সজেন্ডার এক নয়। কিন্তু হিজরা সম্প্রদায়ের সহমর্মিতাকে কাজে লাগিয়ে বিকৃত মস্তিষ্কের ট্রান্সদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

একমাত্র কোটা তারাই দাবি করতে পারে যারা সমাজের পিছিয়ে পড়া জাতি। কিন্তু কি যুক্তির উপরে কোন ধরণের শারীরিক সীমাবদ্ধতা ছাড়া ট্রান্সজেন্ডার কোটা চালু করা হয়েছে তা বোধগম্য নয়। ট্রান্সজেন্ডারদেরকে কোটা দেওয়ার অর্থ হলো বিশ্ববিদ্যালয়ে এলজিবিটিকে সমর্থন দেওয়া। যা সাধারণ শিক্ষার্থীরা কখনো মেনে নেবে না।

মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শামসুন্নাহার হলের এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, হিজরাদের কোটা থাকা যুক্তিযুক্ত কিন্তু ট্রান্সদের কোটা দেওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই৷ নিজেদের বিকৃত করে কোটার দাবিদার হওয়া যায় না। ট্রান্স নাম করে পুরুষরূপী মহিলাদের কারণে আমরা মেয়েরা নিজেরাই ভুক্তভোগী হবো। সে আমাদের আবাসিক হলে থাকবে। তাঁর সাথে রুম শেয়ার করতে হবে। যা একজন সুস্থ স্বাভাবিক মেয়ের পক্ষে কোনভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।

তিনি বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে একজন ট্রান্সমানুষ কখনোই তার শরীরের শতভাগ পরিবর্তন করতে সক্ষম নয়। সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ তারা পরিবর্তন করতে পারে। বাকি ৮০ শতাংশই তাদের অপরিবর্তিত থাকে। এক্ষেত্রে আমাদের নিরাপত্তার বিষয়টা থেকে যায়।

বিদেশে একটি কারাগারে এক অপরাধী তাকে ট্রান্সউইমেন দাবি করায় তাকে মহিলাদের কারাগারে পাঠানো হয়। এরপরে দেখা যায় ওই কারাগারে তার দ্বারা আটজন নারী গর্ভবতী হয়। পরে তাকে পুনরায় পুরুষদের কারাগারে পাঠানো হয়। এরকম যদি হয় একজন পুরুষ আমাদের সঙ্গে হল শেয়ার করবে, রুম শেয়ার করবে-তার দ্বারা আমরা অবশ্যই ক্ষতিগ্রস্ত হবো। এটা আমরা কখনোই চাই না। এর মাধ্যমে সমকামিতার বিজ আমাদের মাঝে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমি মেয়েদের প্রতিনিধি হয়ে এই কোটার বিলুপ্ত চাই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ জোবায়ের বলেন, ট্রান্সদের মতো বিকৃত মস্তিষ্ক ধারীদের কোটা দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হাসির পাত্রে পরিণত করা হয়েছে। সারাদেশের মানুষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে তামাশা করছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে নজর দিলে দেখা যায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত কতটা উপহাসের বিষয় হিসেবে নিয়েছে